ঈশ্বরের জন্ম লগ্ন
সামনে রয়েছে প্রশ্নপত্র,
জন্ম কার আগে,
মানুষ না ভগবান?
কোনটা বেশী সত্য,
ঈশ্বর না বাস্তব?
কোনটা বেশী আকাঙ্ক্ষিত,
মনুষ্যত্ব না ব্যভিচার?
আমি ভাবলাম,
এমন আবার প্রশ্ন হয় নাকি?
নিশ্চয় এমন প্রশ্ন অবাঞ্ছিত।
কেউ বললেন কানে কানে,
ভুল নেই প্রশ্নে কোন,
যুগে যুগে প্রশ্ন গড়িয়েছে এমনই,
আকাশে, বাতাসে, জলে, স্থলে, রণে,
উত্তর মেলেনি কখনও।
ছিল সবই, কিন্তু অনুচ্চারিত শব্দে,
সাহসে ভর করে
কাঠগড়া গড়েনি কেউই,
ধর্ম এগিয়ে চলেছে
ধর্মের লাগাম ধরে,
ভ্রূক্ষেপ নেই কারো কোন,
ঐ দেখ ধর্মীয় পথের পাশে,
চাদরের ওপর পসরায়,
উজ্জ্বল ছবিতে বিকোচ্ছে,
দেব দেবী, খৃষ্ট, বুদ্ধ, মাজার,
মলিন হচ্ছে ওরা অহরহ,
পথচলতি মানুষের পদধূলিতে,
মানুষ কিনছে পছন্দের ছবি,
পছন্দের দরে, আপন করে।
মলিনতা মুছে বুকের কাপড়ে,
কপালে ঠেকিয়েই ছবি,
জন্ম হল আকাঙ্ক্ষিত ঈশ্বরের,
উন্মুক্ত আকাশের আচ্ছাদনে,
জন কোলাহলের ঘেরাটোপে,
ঝুলল দেবতা, দেয়ালের পেরেকে,
আরাধ্য হলো সকাল সন্ধ্যে,
জড়ো হলো ফুল, ধুপ ,মোমবাতি,
বাজল শঙ্খ, শিঙ্গা, কাসর, ঘন্টা,
ধ্বনিত সুর আজানের আকাশে বাতাসে
দুলে দুলে বাজে ঘন্টা গীর্জার ফটকে,
পূণ্যার্থীর মুখে মুখে জয়ধ্বনি ঈশ্বরের,
পেরিয়ে যায় দিন, পেরোনোর মতন করে,
ফুরিয়ে আসে আলো, এবার ফেরার পালা,
বিদায়ের ক্ষনে, সঙ্গী সেই ধর্মের বাহন,
গীতা, কোরান, বাইবেল বা অন্য কিছু।
ছেড়ে যেতে গেলে, সবই ছেড়ে যেতে হয়,
উলঙ্গে আসা, উলঙ্গে ফেরা, এমনইতো হয়,
মানুষের সাধের ঈশ্বর রয়ে যায় ধরণীতে
পূজিত হতে যুগে যুগে মানুষেরই আহ্লাদে,
মানুষেরই আহ্লাদে।।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন