পোস্টগুলি

আজও মনে পড়ে

 https://youtu.be/Vx6Blkj-6jk?si=   //আজও মনে পড়ে   // আজও মনে পড়ে,  সময়ের অবসরে, এ পৃথিবী ছেড়ে তোমারা গেছো চলে, ঐ নীল দিগন্ত পেরিয়ে আরও বহুদূরে, সন্মুখে সাকারে নাইবা  পেলাম দেখা , তোমারা রইলে না হয় পলকে পলকে  মনি হয়ে ,আমাদের চোখের কোলে। আবেগে, অনুরাগে,সুখে, দুঃখে ছায়া হয়ে থেকো আমাদের ই পাশে, অনুভবে তোমাদের যেনো পাই কাছে দিনে রাতে শয়নে স্বপনে জাগরণে । স্নেহের পরশ নিয়ে থেকো সময়জুড়ে সদাহাস্য সাজে, যেমনটা ছিলে বেরে ওঠার প্রতিপদে ,  সেই ছোট্ট বেলার আঁতুড় হতে  সাবলম্বী যৌবন উত্তরণে । আত্মার বিবর্তনের কোন বাঁকে, যদি পারো চিনে নিতে আমাদের , পরিচয় দিও সবিস্তারে , ভাবনায় টানতে কাছে তোমাদের  ফেলে আসা জীবনকে । হাতে একটু সময় নিয়ে এসো, শুনবো তোমাদের বিচরণের বর্ণনা , আকাশে, বাতাসে  পাহাড়ে, পাতালে , সমুদ্দুরে ,গহন অরণ্যে, মরুভূমিতে, যেমন করে শোনাতে তোমরা , আমাদের ঘুমের ভেলায় ভাসিয়ে দিতে, স্নেহের ছোঁয়ায় ছোঁয়ায় প্রতি রাতে।  জন্ম জন্মান্তরে , চাই ,চাই, তোমাদের ই চাই কখনও দুহিতা ,কখনও জায়া, কখনোবা পুত্র কিংবা স্বামী বেশে...

" স্বর্ণ চাঁপা "

 স্বর্ণ চাঁপা সাত সকালে  চুপি চুপি বললো আমায়, বছর তো পেরিয়ে গেলো, কৈ বললে না তো? দিনগুলো তোমার  কাটলো কেমন ?   আমি বললেম , থাক না তেমন জবাব,  প্রতি প্রভাতে , সোনালী আলোর সঙ্গে,  ঘ্রাণের ঘোমটা তুমি দিও তুলে,  আমি নয়ন মেলে দেখবো  তোমায় ,মনের সুখে সোহাগ ভরে,   "স্বর্গবাস" বুঝি একেই বলে? আমি চাই,তেমনি চাই ,  সারাটা বছর ধরে।। সুব্রত দাস।।

আমিত্ব

ছবি
  // আমিত্ব // আমার আমিত্বকে নিয়ে আমি আজ নাজেহাল, ব্যতিব্যস্ত, বেহাল, অস্থির পায়চারি ঘর বার সারারাত। মনে পরে আজও এমনই, কৈশোরে, আমিত্ব এসেছিল অবেলায় এলোমেলো গায়ে জীবনে আমার, সাজের দর্পণে সেই প্রথম দেখা অবয়ব তার আপাদমস্তক জুড়ে শুধু অভিমান, শুধু অনুরাগ। স্বজনের টালা আঁচে টেলেছিল সে নিজেকে ধীরে ধীরে সময়ের তালে। যৌবনে তার পূর্ণ প্রকাশ পেশীর সঞ্চালনে, নারীর আকর্ষণে, আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর জীবন জড়িয়ে আষ্টেপিষ্টে অবাধ অহংকারে। আমার আমিত্বের আস্ফালন আকাশে, বাতাসে, বাজারে, কাছারির সেরেস্তায়, মিছিলে, মঞ্চে মঞ্চে জ্বালাময়ি বক্তৃতায়, পরাস্ত হয়নি পুরুষত্ব কখনও। পেড়িয়ে আসা বয়েসের শেষ ফলক, হাত ধরাধরি করে, ছেড়ে গেছে আমায় বার্ধক্যের গোসাঘরে। অশক্ত শরীর হারিয়েছে আস্ফালন সম্বল সেই লাঠি আর চশমা যা এখন একান্ত আপন। আমিত্ব আজও ছাড়েনি সঙ্গ আমার এপাড়ায়, ওপাড়ায়, মন্দিরে, মসজিদে, গীর্জায়, বা কোন নির্জনতায় যেখানেই ছেড়ে আসি তারে ঘরে ফিরে দেখি রয়েছে সে গোপনে ঘরেরই এক কোনে যেমন ছিল সে আগে। হুটারের শব্দে চেয়ে দেখি কফিনে বন্দী উনি চলে গেলেন আমিত্ব আর নেই সঙ্গে তার। এ ভাবেইতো থেকে যেতে হয় এ ভাবেইতো ছেড়ে যেতে হয় ।।

হাতে ধরা সুতো ঘর বাঁধে হাতে

ছবি
// হাতে ধরা সুতো ঘর বাঁধে হাতে // কে বলে তুমি, ছিঁড়েছো বাঁধন, গেছো চলে, চুকিয়ে পাট এ পারে।ঢ় কে বলে তুমি, ছিঁড়েছো বাঁধন, গেছো চলে, চুকিয়ে পাট এ পারে। আমিতো দেখি, যা ছিল সব, তেমনি আছে, যা ছিলো আগে। আলো ফোটে, আঁধার ভাঙ্গে, যাত্রা শুরু জনে জনে, থেকে থেকে সরব হতে চায় শব্দ, আচমকা সজাগ স্মৃতি, রাশ টানে, বলে "থাক"। বলতো, "থাকবে কেন" যে ছিল এ‌তকাল, দাপটে  লেপটে কায়া হয়ে আনাচে কানাচে, বালিশে,  অস্তরণে, নাগালে, শরীরে, আজো ঠাঁই শুধু তার, কাগজে কলমের আঁচড়ে, স্মৃতির গহ্বরে। সেদিন হেলে পড়া গ্রীষ্ম দুপুরে, দেখে আমায় অসুখ বিছানার পাশে, এঁকেছিল সে কাগজে, "চিনেছি তোমায় আমি, সময়ের সমন ছিল জড়ানো হাতে তাই, এলেই যদি এমন অসময়ে কেন এলে? সাধ ছিল ফিরবো আবার, ফেলে আসা আস্তানাতে,মম্ভ কাটিয়ে যাব কিছুটা সময়, সুখের ঘরে বাতি জ্বেলে, হই হট্টগোলে, কিন্তু হল কৈ? অধরা রইলো সেও, তবুও যে যেতে হবে " । এ কেমনতর ভাবনা বল, অহরহ ভাবায় আমায়, যদিও জানি এমনি তো হয়। লাটাই চলে, লাট খায়, সুতো টানে স্তিমিত হয় চলন তার, হাতে ধরা সুতো ঘর বাঁধে হাতে, তুমি চলে গেলে তুমি চলে গেলে চুকিয়ে পা...

ঈশ্বরের জন্ম লগ্ন

ছবি
// ঈশ্বরের জন্ম লগ্ন //  সামনে রয়েছে প্রশ্নপত্র, জন্ম কার আগে, মানুষ না ভগবান? কোনটা বেশী সত্য, ঈশ্বর না বাস্তব? কোনটা বেশী আকাঙ্ক্ষিত, মনুষ্যত্ব না ব্যভিচার? আমি ভাবলাম, এমন আবার প্রশ্ন হয় নাকি? নিশ্চয় এমন প্রশ্ন অবাঞ্ছিত। কেউ বললেন কানে কানে, ভুল নেই প্রশ্নে কোন, যুগে যুগে প্রশ্ন গড়িয়েছে এমনই, আকাশে, বাতাসে, জলে, স্থলে, রণে, উত্তর মেলেনি কখনও। ছিল সবই, কিন্তু অনুচ্চারিত শব্দে, সাহসে ভর করে কাঠগড়া গড়েনি কেউই, ধর্ম এগিয়ে চলেছে ধর্মের লাগাম ধরে, ভ্রূক্ষেপ নেই কারো কোন, ঐ দেখ ধর্মীয় পথের পাশে, চাদরের ওপর পসরায়, উজ্জ্বল ছবিতে বিকোচ্ছে, দেব দেবী, খৃষ্ট, বুদ্ধ, মাজার, মলিন হচ্ছে ওরা অহরহ, পথচলতি মানুষের পদধূলিতে, মানুষ কিনছে পছন্দের ছবি, পছন্দের দরে, আপন করে। মলিনতা মুছে বুকের কাপড়ে, কপালে ঠেকিয়েই ছবি, জন্ম হল আকাঙ্ক্ষিত ঈশ্বরের, উন্মুক্ত আকাশের আচ্ছাদনে, জন কোলাহলের ঘেরাটোপে, ঝুলল দেবতা, দেয়ালের পেরেকে, আরাধ্য হলো সকাল সন্ধ্যে, জড়ো হলো ফুল, ধুপ ,মোমবাতি, বাজল শঙ্খ, শিঙ্গা, কাসর, ঘন্টা, ধ্বনিত সুর আজানের আকাশে বাতাসে দুলে দুলে বাজে ঘন্টা গীর্জার ফটকে, পূণ্যার্থীর মুখে মুখে জয়ধ্বনি ঈশ্ব...

অপেক্ষা

ছবি
// অপেক্ষা // আজকাল হাতে সময় অনেক কম,  চোয়ালে চুম্বন এঁকে গেছে কোভিড, সাহিত‍্য আমায় বলে, তফাত যাও, জানিনা কবে দাঁড়ি টানবে শুদ্ধিকরণ। ছোট্টবেলায় ভীষণ ভীতি ছিল "আঁধারে" ওকে দেখলেই, আঁক কাটত হিম, হৃদপিণ্ডে, আমি এখন বেজায় খুশী ওর সাহচর্যে   সময় জুড়ে অপেক্ষা আমার সারাটা দিন। এখন ও আসে প্রতি রাতে জানালার গরাদ গলিয়ে হাতছানি দেয় আমাকে কুশবরণ চাঁদোয়ার নীচে বসি দুজনে মেঘের কোলে কোমল ঘাসের কুশানে। ও আমায় গল্প বলে, কোলে, আমার মাথা রেখে, বিনিকাটে ঘন কেশে, ওর গল্পে মনে পরে আমার, ছোটবেলার গ্যাস লন্ঠন, খালিপায়ে ফুটবল খেলা, কৈশোর বেলায়, গোপনে ধূমপান, লুকিয়ে প্রেম, সেই প্রেম ঐশ্বরীক হয়ে প্রেমের তকমা হৃদয়ে সেঁটে বয়ে চলেছে দশক পেরিয়ে দশকে, ও জুড়ে দেয় গল্প দাম্পত্য জীবনের, ঘাত প্রতিঘাত আচার, অনাচার, আমি থমকে যাই চেপে ধরি হাতটা, ও আমার কপালে চুম্বন আঁকে বলে, সই চলো যাই আনন্দ নিকেতনে। চোখ মেলে দেখি, পূব আকাশে আলো, ও কখন যে গেল চলে, জানা নেই, আসবে কি না আবার তাও জানা নেই, তবুও অপেক্ষা আমার সারাটা দিন ।।