পোস্টগুলি

মানুষ এবার অলস হবে

ছবি
   // মানুষ এবার অলস হবে // সেদিনই এমনি ছিল, রাজা ছিল, প্রজা ছিল রাজত্ব ছিল, সভা ছিল, সভাসদ ছিল, সান্ত্রী ছিল, সৈন্য ছিল, যুদ্ধ ছিল, সেদিন এমনি ছিল । ছিল দেববিগ্রহ,  ছিল পূজারী, ছিল সেবায়ীত। ধর্ম ছিল, শিষ্টাচার ছিল, ভেদাভেদ ছিল,, কর্ম অপকর্মের বিধান ছিল, ছিলো শাসন, ছিলো শোষন সেদিন এমনি ছিল । আপন ছন্দে বইতো নদী দুকুল ছুঁয়ে দুষ্টুমিতে, বাইতো মাঝি নাও টা তার গলা ছেড়ে গানের তালে, গ্রাম পেরিয়ে গ্রাম্য মানুষ, যেতো ধেঁয়ে রুদ্ধশ্বাসে  গঞ্জের পথে পায়ে পায়ে সখ আহ্লাদে ভাগ বসাতে সুখের সখের পসরাতে, সাজতে হবে সাজাতে হবে উৎসবে আনন্দে মাততে হবে, সেদিন এমনি ছিল । শরতের শিশির জড়ানো ধান শিসের আল বেয়ে বধূ বেশে চলেছে গ্রাম্য মেয়ে, হাতে ধরা হাতল তার ফুলকাটা টিনের তোরঙ্গের, চোখে মুখে আকুলতা, চেনা পুকুর, চেনা মাঠ, চেনা নোয়ানো কাশফুল, চেনা ঝিমানো সাদা বক, চেনা কুড়েঘর, চেনা তালগাছ, সেদিন এমনি ছিল । ঐ দেখা যায় পাঠশালা, নামতা সেখানে ছড়ায়, ছড়ায়, ছড়ি হাতে মাষ্টারমশাই অঙ্ক শেখায়, সংখ্যায় সংখ্যায় চলছে লড়াই, মেধার মানে উতরোনো চাই, সেদিন এমনি ছিল । পাল্টে গেছে প্রেক্ষাপট, ঝাঁ ...

পারাপার

ছবি
 // পারাপার // ভাবতে ভাবতে ভবের পারে পারাপারে, নীরবে তে, ভিড়বে যখন নাও টি তোমার, চালার পাশে,চেনা ঘাটে, হাঁক মারবে হালের মাঝি ওরে, আর দেরি নয়, আলগা কর, আলগা কর নাওয়ের কাছি, এবার যে যেতে হবে আরো মানুষ, দাঁড়িয়ে আছে পারে পারে, সাঙ্গ হয়েছে খেলা তাদের । ছলাৎ, ছলাৎ শব্দে, দাঁড় বাইছে মাঝি, পেছন ফিরে ঐ দেখা যায় রয়েছে পরে পথের পাশে, পুঁটুলি তে বাঁধা, আগালানো সাধের সাজি, সে যে মুচকি হাসে, হাতটি নাড়ে, এবার সে আবার খুঁজছে সাথী, যার কোলে সে উঠবে চড়ে, বাঁধবে তাকে মায়ার ডোরে। চুকিয়ে পাঠ এপারেতে, তোমার যাত্রা হল শুরু অজানাতে, একপেশে দৃষ্টিতে মেলে, ডালে বসে দেখছে কাক, ভাবছে সঙ্গোপনে, একান্তে, কেমন বার্তা তাকে দিতে হবে প্রভুর দ্বারে, সঠিক ঠিকানায় আত্মাটা কে, পৌঁছে দিতে অপর পারে।।

ভাবতে নেই

ছবি
  // ভাবতে নেই //                                   কখনো কখনো, পেরিয়ে আসা সময় যতই হাতছানি দিক, পেছন ফিরে তাকাতে নেই। পেছনে ফেলে আসা  দু্ঃখ, বঞ্চনার কথা, আলোচনা প্রসঙ্গে, যতই উন্মোচনের তাগিদ দিক, জ্ঞানতো প্রাধান্য দিতে নেই । নিজের অক্ষমতার পাঁচালী  অপরের সহানুভূতি পাবার জন্য জনসমক্ষে উন্মুক্ত করতে নেই। অঢেল সুখের আড়ালে  বাসা বাঁধে, গাঁঢ় অন্ধকার, অন্যের সুখ দেখে তাই, নিজের জীবনকে মাপতে নেই। রাজনৈতিক বক্তাদের  একে, অপরের প্রতি  কুকথার লাগামহীন কটাক্ষ  সংবাদ মাধ্যমে প্রদর্শিত হলেও, গায়ে গতরে মাখতে নেই। ঈশ্বরের আশীর্বাদে, জীবনে, আকষ্মিক অলৌকিক ঘটনা ঘটলে, তাই নিয়ে আত্ম জাহির করতে নেই। আত্মতুষ্টি তে কাউকে  কৈশোর থেকে একতরফা মনেপ্রাণে ভালোবাসলেও, প্রত্যাশার পারদ চরাতে নেই। আকছার এমনো হয়, জীবনে চলার পথে, বয়েসের ধাপে ধাপে, নিজের লাগামে, নিজেকেই রাশ টানতে হয় বয়েস কালে, নতুন প্রজন্মের চলন-বলন, পছন্দসই না'হলেও হাসিমুখে হজম করতে হয়। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে, প্রতি পদক...

ভালোবাসা

ছবি
// ভালোবাসা // আকাশ কাঁধে ঐ রূপোলি চাঁদ হাতছানি দেয় প্রতি রাতে, ঢালে আঁচ ভালোবাসার আনাচে কানাচে প্রস্ফুটিত যৌবনে, রঙিন ওষ্ঠাধর ছুঁয়ে তার উচ্চারিত ধ্বনি, সুর হয়ে ভাসে বাতাসে,বলে "ভালোবাসি, তোমায় ভালোবাসি"। চলমান তারারা চুপিসারে বলে প্রেমিক প্রেমিকার কানে কানে, বসন্ত যে যায় পেরিয়ে, চারিদিকে চেয়ে দেখো প্রকৃতি কেমন সেজেছে আজ বাহারি রঙিন ফুলের বেশে, সম্মোহিত সুবাসে মুখরিত সবাকার চারিধার, হাতে হাত রাখ, চাইলে চুম্বন আঁকতেই পারো প্রেয়সীর কপালে, আবেগভরে, বলতেই পারো "ভালোবাসি, তোমায় ভালোবাসি"। ভরা যৌবন সম্মোহিত হতে চায় "রজঃ - তমঃ" মায়ার মোহে, বেসামাল হতেই পারো যখন তখন, সাবধানে সামলে রেখো চলনকে, লাগাম টানো মনে, চরন যুগলে, তাল কেটোনা পদে পদে, পা টিপে টিপে সময় তুমি পেরোতেই পারো। আজ যাকে ভাবছো আপন, সে কি থাকবে তেমনি তোমার পাশে সারাটা জীবন ? পঞ্চেন্দ্রিয় যা তোমাকে সঙ্গ দিয়েছে জন্ম থেকে  জীবনে, একে একে তারাও তো ছাড়বে  চিরতরে কায়াকে তোমার। অনাত্মীয়দের কথা না হয় থাক, কিন্তু, নিকট স্বজন ?, যেমন পরম প্রিয় পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, আদরের ভ্রাতা, ভগ্নি, অথবা ...

এমন করে, কাটতেই তো পারে এ জীবন

ছবি
  // এমন করে, কাটতেই তো পারে এ জীবন //  এসোনা, আমরা এখন, অভ‍্যাস করি এমনই, ভুলে যেতে শৈশব, কৈশোর, ভুলে যেতে যৌবন, বার্ধ‍ক‍্য। কথোপকথন শুধু, এই মুহুর্ত নিয়ে, বর্তমান বাতাবরণের চাঁদোয়ার নীচে, কি হবে পেছনের বোঝা বয়ে, অনন্ত নিশানায় দৃষ্টি মেলে? যা গেছে ভাবছ তুমি, তা যাক, ভাবছ যা আসবে, তাও থাক, তাকিয়ে দেখ আকাশের দিকে তারারা কেমন সেজেছে আয়েশে বলাতো যাবেনা হলফ করে, এমনই,  আজ যারা জ্বালছে আলো  ওখানে, তারাই আবার আসবে ফিরে সেখানে। তার চেয়ে এই ভালো, হাতে হাত রাখো, ঋতু থেকে ঋতুর উত্তরণে, ভাসতে থাকো সূর্যমুখী সাজে সূর্যের দিকে চেয়ে দেখো ধরণীর র‍্যাম্পে রূপের লাবণ‍্যে চলমান আকাশ ক্ষণে ক্ষণে বেশ বদলে, কপালে গাঢ় টিপ তার। ইন্দ্রিয়দের দাও দুলিয়ে অনায়াসে আত্মিক আনন্দের সুখ সন্ধানে দেখবে শুধুই তারুণ‍্য তোমার চারপাশে হতাশার ছায়া নেই আর ধারে কাছে। এমন করে, কাটতেই তো পারে এ জীবন তোমার, আমার, ওদের,  আরো সকলের উচ্ছাসে, উল্লাসে, আবেগে, ক্ষতি কি তাতে? এসো সমস্বরে সকলে গলা উঁচিয়ে বলি  "উল্লাস, উল্লাস, উল্লাস"।।

স্বপ্নীল সুখ

ছবি
" স্বপ্নীল সুখ" ঝমঝমিয়ে ঝরছে বৃষ্টি বাইরে , অবিরাম বর্ষণে, রাস্তার পিচের পিঠে ছুটছে জল, বিন্যাসে অফুরন্ত ঢেউ, ঘরের দেয়াল টানা কাঁচে , বাইছে বর্ষার ঘাম, গুটি গুটি গায়ে, আমি আবছা কাঁচের ভেতর দৃষ্টি মেলেছি বাইরে, দেখছি জলছবি। এখন এখানে অনেক রাত, পাশে তুমি নেই, গতরে আলগা আমি, ভাসছে কাগজের নাও বেজায় বেসামাল বানভাসি জলে, থেকে থেকে খাচ্ছে পাক উল্টো চালে, ছুটছে দুরন্ত স্রোতের সঙ্গী হয়ে কার কি বার্তা বয়ে চলেছে সে, কে জানে? তোমাকে হারাচ্ছি আমি ক্ষনে ক্ষনে, তুমিও কি ভাবছো তেমনি? উল্টো দিকের তিনতলার ঘরের আলোটা জ্বললো, আমার ঘরে আমায় ঘিরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, মাঝে মাঝে রাস্তার মাথায় বিজ্ঞাপনের লাল, নীল, সবুজ, নিয়নের আলো আঁধার কাড়ে আমার ঘরে, আঁকরে ধরে আমাকে রঙিন বেশে। কৈশোরের একপেশে ভালোবাসা  আজ ও নাড়া দিয়ে যায় মনের গভীরের অনুভূতিতে, অনেক বর্ষণ, অনেক বসন্ত, গেছে পেরিয়ে, তবুও কি রয়েছো তুমি তেমনি যেমন ছিলে আমার বিগত কৈশোরে? অপেক্ষায় আছি আজ ও, শুনবো বলে, না শোনা কথা, প্রত্যাশা ঘিরে, ঘুরে ফেরে আমার চারপাশে, অধরা যদি সে রয়েই গেল চিরকাল থাকনা, ক্ষতি কি তাতে, এইতো আছি, মস্তিতে আছি, আন...

একেই কি বলে সভ্যতা