ভাবতে নেই
কখনো কখনো,
পেরিয়ে আসা সময়
যতই হাতছানি দিক,
পেছন ফিরে তাকাতে নেই।
পেছনে ফেলে আসা
দু্ঃখ, বঞ্চনার কথা,
আলোচনা প্রসঙ্গে,
যতই উন্মোচনের তাগিদ দিক,
জ্ঞানতো প্রাধান্য দিতে নেই ।
নিজের অক্ষমতার পাঁচালী
অপরের সহানুভূতি পাবার জন্য
জনসমক্ষে উন্মুক্ত করতে নেই।
অঢেল সুখের আড়ালে
বাসা বাঁধে, গাঁঢ় অন্ধকার,
অন্যের সুখ দেখে তাই,
নিজের জীবনকে মাপতে নেই।
রাজনৈতিক বক্তাদের
একে, অপরের প্রতি
কুকথার লাগামহীন কটাক্ষ
সংবাদ মাধ্যমে প্রদর্শিত হলেও,
গায়ে গতরে মাখতে নেই।
ঈশ্বরের আশীর্বাদে, জীবনে,
আকষ্মিক অলৌকিক
ঘটনা ঘটলে, তাই নিয়ে
আত্ম জাহির করতে নেই।
আত্মতুষ্টি তে কাউকে
কৈশোর থেকে একতরফা
মনেপ্রাণে ভালোবাসলেও,
প্রত্যাশার পারদ চরাতে নেই।
আকছার এমনো হয়,
জীবনে চলার পথে,
বয়েসের ধাপে ধাপে,
নিজের লাগামে,
নিজেকেই রাশ টানতে হয়
বয়েস কালে,
নতুন প্রজন্মের চলন-বলন,
পছন্দসই না'হলেও
হাসিমুখে হজম করতে হয়।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে,
প্রতি পদক্ষেপে,
আপসহীনতার মানসিকতা,
মন থেকে উচ্ছেদ
করতে হয়, বৈকি।
অবসর থেকে শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত,
একটু একটু করে পার্থিব মায়ার
বাঁধন আলগা করার জন্য,
আপোষ তো করতেই হয়।
জীবনে কি পেলাম
আর কি পেলাম না
এই নিয়ে সকাল সন্ধ্যে
কাঁটা ছেঁড়া করতে নেই,
তার চেয়ে, মূল্যায়নে
মস্তিষ্ককে যদি খাটাতেই হয়,
তবে ভাবা উচিত,
"নিয়েছি জীবনে যত,
ফেরানো গেল কি
তার চেয়েও বেশি?"
এভাবে দিনপঞ্জির ঘরগুলো,
যদি পেরোনো যায় অনায়াসে,
ক্ষতি কি তাতে,
এই না হলে জীবন?
কাঁদতে কাঁদতে আসা,
হাসতে হাসতে যাওয়া,
কারুর কাছে লম্বা সফর,
কারুর কাছে সংক্ষিপ্ত ।
বন্ধু নিজে হাসতে থাক
অপরকে ও হাসিয়ে যাও
জীবনের শেষ লগ্নে বরাদ্দ
সেই সাড়ে তিন হাত জমি,
তোমার ও আমার ও,
এতে আর ভাগ হবে না,
কোন মতেই ভাগ হবে না,
এসব নিয়ে বেশি ভাবতে নেই,
একেবারে ই ভাবতে নেই।।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন