পোস্টগুলি

দিশা'র সন্ধানে

ছবি
   //  দিশা'র সন্ধানে  // আমার আসমানী রংয়ের  'আকাশ ঘর'? চিনবে, তোমারা চিনবে, নিশ্চয়ই চিনবে । সূর্য যখন চড়বে, আমার ঘরের চালে  থালার সাজে, বলবে তোমরা, "হলো ভোর  যাত্রা হলো শুরু"। সারাদিন সূর্য মেঘে লুকোচুরি খেলা  আমায় ঘিরে  আমার আকাশ ঘরে, নেই কোনো শঙ্কা, নেই কোনো লাজ, নেই কোনো  নিন্দা, নেই কোনো ডর। এরই মাঝে কখনো, বাদল ছুঁয়ে গেলে, আবছা সাজে জল ছবিতে সাজবে, আমার ঐ আকাশ ঘর, দেখবে, তোমরা দেখবে, চিনবে, নিশ্চয়ই চিনবে। সূর্য যখন পড়বে ঢলে আকাশ ঘরের দাওয়ায় রক্তিম কোমল বেশে, চাঁদ তখন মারবে উঁকি আকাশ ঘরের চালে, তারারা আঁধার কেটে, হীরের জ্যোতি গায়ে সেঁটে, হাজির হবে আকাশ জুড়ে, রূপসী রূপের সম্মোহনে কাড়বে নজর নির্বিকারে, এমনই সাধের ঐ আকাশ ঘর, দেখবে, তোমরা দেখবে, নিশ্চয়ই দেখবে। আকাশ ঘর আমার, পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণ, সব দিকে তেই সোজা, মুখ ঘোরালেই দেখবে, বিছিয়ে নীচে, বিচিত্র এক জগত , এক পারে তে, ছুটছে মানুষ   অপর পারে, গভীর নিদ্রায়  রাত্রি যাপন। অক্লান্ত পরিশ্রমে, সময়কে সাক্ষী রেখে, গড়ছে মানুষ সভ্যতার নিদর্শন, আবার কেউবা...

হেরিটেজ

ছবি
  // হেরিটেজ // আমি, কেমন যেন একটা মানুষ, নিজের কাছে নিজেই বেমানান, দেখলেই তেমন কিছু আজকের জমানায়, ফিরে যাই পুরানো দিনের আঙিনায়। আমার আগলানো ঝুলির ঘাড় টপকে, অগ্রাধিকারের আধিপত্য বিস্তারে, চটজলদি আত্ম জাহিরের তাগিদে, স্মৃতির উল্লেখ্য দ্রষ্টব্য সামগ্রী যখন একে অপরের সঙ্গে লিপ্ত - বাকবিতণ্ডা, ধস্তাধস্তি, রেষারেষিতে, কেন জানিনা আমি বেজায় উপভোগ করি। আমি, কেমন যেন একটা মানুষ, নিজের কাছে নিজেই বেমানান। হারিয়ে যাওয়া ঊষালগ্নে, মেঠোপথে, দূলকি চালে গরুর গাড়ি, গাড়োয়ানের মন খোলা উদাত্ত কন্ঠে  গোধূলি বেলায় ঘরমুখী মেঠো সুর, ইমারত, পথঘাট, গাড়ি বারান্দা, হারিয়ে যাওয়া জীবন, হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য, হারিয়ে যাওয়া সহবত, সব কিছুই আগলাতে চায় এ মন আপন করে, আপোষহীন অহংকারে। আমি, কেমন যেন একটা মানুষ, নিজের কাছে নিজেই বেমানান।   ভোরের আধফোঁটা আলোয়, ঘুম জড়ানো কানে, দুমুখো ট্রামের টিং টিং শব্দ, আজ ও মনে পড়ে যায়, লাইনের ঘড় ঘড় আওয়াজ বাড়ির দোর গোড়া হয়ে  বাঁক নেওয়া রাস্তা ঘেঁষে, এগোয় সামনের স্প্রিংক্লার থেকে জল ছিটিয়ে চলার পথে, লাইন সাফাইয়ের তাগিদে, আমার তখন শৈশব বেলা, অব...

আক্রান্ত পৃথিবী অজানা অসুখে

 https://youtu.be/SOVGX_7etBs?si=24FzSUlcOudC5EgK

আজও মনে পড়ে

 https://youtu.be/Vx6Blkj-6jk?si=   //আজও মনে পড়ে   // আজও মনে পড়ে,  সময়ের অবসরে, এ পৃথিবী ছেড়ে তোমারা গেছো চলে, ঐ নীল দিগন্ত পেরিয়ে আরও বহুদূরে, সন্মুখে সাকারে নাইবা  পেলাম দেখা , তোমারা রইলে না হয় পলকে পলকে  মনি হয়ে ,আমাদের চোখের কোলে। আবেগে, অনুরাগে,সুখে, দুঃখে ছায়া হয়ে থেকো আমাদের ই পাশে, অনুভবে তোমাদের যেনো পাই কাছে দিনে রাতে শয়নে স্বপনে জাগরণে । স্নেহের পরশ নিয়ে থেকো সময়জুড়ে সদাহাস্য সাজে, যেমনটা ছিলে বেরে ওঠার প্রতিপদে ,  সেই ছোট্ট বেলার আঁতুড় হতে  সাবলম্বী যৌবন উত্তরণে । আত্মার বিবর্তনের কোন বাঁকে, যদি পারো চিনে নিতে আমাদের , পরিচয় দিও সবিস্তারে , ভাবনায় টানতে কাছে তোমাদের  ফেলে আসা জীবনকে । হাতে একটু সময় নিয়ে এসো, শুনবো তোমাদের বিচরণের বর্ণনা , আকাশে, বাতাসে  পাহাড়ে, পাতালে , সমুদ্দুরে ,গহন অরণ্যে, মরুভূমিতে, যেমন করে শোনাতে তোমরা , আমাদের ঘুমের ভেলায় ভাসিয়ে দিতে, স্নেহের ছোঁয়ায় ছোঁয়ায় প্রতি রাতে।  জন্ম জন্মান্তরে , চাই ,চাই, তোমাদের ই চাই কখনও দুহিতা ,কখনও জায়া, কখনোবা পুত্র কিংবা স্বামী বেশে...

" স্বর্ণ চাঁপা "

 স্বর্ণ চাঁপা সাত সকালে  চুপি চুপি বললো আমায়, বছর তো পেরিয়ে গেলো, কৈ বললে না তো? দিনগুলো তোমার  কাটলো কেমন ?   আমি বললেম , থাক না তেমন জবাব,  প্রতি প্রভাতে , সোনালী আলোর সঙ্গে,  ঘ্রাণের ঘোমটা তুমি দিও তুলে,  আমি নয়ন মেলে দেখবো  তোমায় ,মনের সুখে সোহাগ ভরে,   "স্বর্গবাস" বুঝি একেই বলে? আমি চাই,তেমনি চাই ,  সারাটা বছর ধরে।। সুব্রত দাস।।

আমিত্ব

ছবি
  // আমিত্ব // আমার আমিত্বকে নিয়ে আমি আজ নাজেহাল, ব্যতিব্যস্ত, বেহাল, অস্থির পায়চারি ঘর বার সারারাত। মনে পরে আজও এমনই, কৈশোরে, আমিত্ব এসেছিল অবেলায় এলোমেলো গায়ে জীবনে আমার, সাজের দর্পণে সেই প্রথম দেখা অবয়ব তার আপাদমস্তক জুড়ে শুধু অভিমান, শুধু অনুরাগ। স্বজনের টালা আঁচে টেলেছিল সে নিজেকে ধীরে ধীরে সময়ের তালে। যৌবনে তার পূর্ণ প্রকাশ পেশীর সঞ্চালনে, নারীর আকর্ষণে, আত্মবিশ্বাসে টইটুম্বুর জীবন জড়িয়ে আষ্টেপিষ্টে অবাধ অহংকারে। আমার আমিত্বের আস্ফালন আকাশে, বাতাসে, বাজারে, কাছারির সেরেস্তায়, মিছিলে, মঞ্চে মঞ্চে জ্বালাময়ি বক্তৃতায়, পরাস্ত হয়নি পুরুষত্ব কখনও। পেড়িয়ে আসা বয়েসের শেষ ফলক, হাত ধরাধরি করে, ছেড়ে গেছে আমায় বার্ধক্যের গোসাঘরে। অশক্ত শরীর হারিয়েছে আস্ফালন সম্বল সেই লাঠি আর চশমা যা এখন একান্ত আপন। আমিত্ব আজও ছাড়েনি সঙ্গ আমার এপাড়ায়, ওপাড়ায়, মন্দিরে, মসজিদে, গীর্জায়, বা কোন নির্জনতায় যেখানেই ছেড়ে আসি তারে ঘরে ফিরে দেখি রয়েছে সে গোপনে ঘরেরই এক কোনে যেমন ছিল সে আগে। হুটারের শব্দে চেয়ে দেখি কফিনে বন্দী উনি চলে গেলেন আমিত্ব আর নেই সঙ্গে তার। এ ভাবেইতো থেকে যেতে হয় এ ভাবেইতো ছেড়ে যেতে হয় ।।

হাতে ধরা সুতো ঘর বাঁধে হাতে

ছবি
// হাতে ধরা সুতো ঘর বাঁধে হাতে // কে বলে তুমি, ছিঁড়েছো বাঁধন, গেছো চলে, চুকিয়ে পাট এ পারে।ঢ় কে বলে তুমি, ছিঁড়েছো বাঁধন, গেছো চলে, চুকিয়ে পাট এ পারে। আমিতো দেখি, যা ছিল সব, তেমনি আছে, যা ছিলো আগে। আলো ফোটে, আঁধার ভাঙ্গে, যাত্রা শুরু জনে জনে, থেকে থেকে সরব হতে চায় শব্দ, আচমকা সজাগ স্মৃতি, রাশ টানে, বলে "থাক"। বলতো, "থাকবে কেন" যে ছিল এ‌তকাল, দাপটে  লেপটে কায়া হয়ে আনাচে কানাচে, বালিশে,  অস্তরণে, নাগালে, শরীরে, আজো ঠাঁই শুধু তার, কাগজে কলমের আঁচড়ে, স্মৃতির গহ্বরে। সেদিন হেলে পড়া গ্রীষ্ম দুপুরে, দেখে আমায় অসুখ বিছানার পাশে, এঁকেছিল সে কাগজে, "চিনেছি তোমায় আমি, সময়ের সমন ছিল জড়ানো হাতে তাই, এলেই যদি এমন অসময়ে কেন এলে? সাধ ছিল ফিরবো আবার, ফেলে আসা আস্তানাতে,মম্ভ কাটিয়ে যাব কিছুটা সময়, সুখের ঘরে বাতি জ্বেলে, হই হট্টগোলে, কিন্তু হল কৈ? অধরা রইলো সেও, তবুও যে যেতে হবে " । এ কেমনতর ভাবনা বল, অহরহ ভাবায় আমায়, যদিও জানি এমনি তো হয়। লাটাই চলে, লাট খায়, সুতো টানে স্তিমিত হয় চলন তার, হাতে ধরা সুতো ঘর বাঁধে হাতে, তুমি চলে গেলে তুমি চলে গেলে চুকিয়ে পা...

ঈশ্বরের জন্ম লগ্ন

ছবি
// ঈশ্বরের জন্ম লগ্ন //  সামনে রয়েছে প্রশ্নপত্র, জন্ম কার আগে, মানুষ না ভগবান? কোনটা বেশী সত্য, ঈশ্বর না বাস্তব? কোনটা বেশী আকাঙ্ক্ষিত, মনুষ্যত্ব না ব্যভিচার? আমি ভাবলাম, এমন আবার প্রশ্ন হয় নাকি? নিশ্চয় এমন প্রশ্ন অবাঞ্ছিত। কেউ বললেন কানে কানে, ভুল নেই প্রশ্নে কোন, যুগে যুগে প্রশ্ন গড়িয়েছে এমনই, আকাশে, বাতাসে, জলে, স্থলে, রণে, উত্তর মেলেনি কখনও। ছিল সবই, কিন্তু অনুচ্চারিত শব্দে, সাহসে ভর করে কাঠগড়া গড়েনি কেউই, ধর্ম এগিয়ে চলেছে ধর্মের লাগাম ধরে, ভ্রূক্ষেপ নেই কারো কোন, ঐ দেখ ধর্মীয় পথের পাশে, চাদরের ওপর পসরায়, উজ্জ্বল ছবিতে বিকোচ্ছে, দেব দেবী, খৃষ্ট, বুদ্ধ, মাজার, মলিন হচ্ছে ওরা অহরহ, পথচলতি মানুষের পদধূলিতে, মানুষ কিনছে পছন্দের ছবি, পছন্দের দরে, আপন করে। মলিনতা মুছে বুকের কাপড়ে, কপালে ঠেকিয়েই ছবি, জন্ম হল আকাঙ্ক্ষিত ঈশ্বরের, উন্মুক্ত আকাশের আচ্ছাদনে, জন কোলাহলের ঘেরাটোপে, ঝুলল দেবতা, দেয়ালের পেরেকে, আরাধ্য হলো সকাল সন্ধ্যে, জড়ো হলো ফুল, ধুপ ,মোমবাতি, বাজল শঙ্খ, শিঙ্গা, কাসর, ঘন্টা, ধ্বনিত সুর আজানের আকাশে বাতাসে দুলে দুলে বাজে ঘন্টা গীর্জার ফটকে, পূণ্যার্থীর মুখে মুখে জয়ধ্বনি ঈশ্ব...

অপেক্ষা

ছবি
// অপেক্ষা // আজকাল হাতে সময় অনেক কম,  চোয়ালে চুম্বন এঁকে গেছে কোভিড, সাহিত‍্য আমায় বলে, তফাত যাও, জানিনা কবে দাঁড়ি টানবে শুদ্ধিকরণ। ছোট্টবেলায় ভীষণ ভীতি ছিল "আঁধারে" ওকে দেখলেই, আঁক কাটত হিম, হৃদপিণ্ডে, আমি এখন বেজায় খুশী ওর সাহচর্যে   সময় জুড়ে অপেক্ষা আমার সারাটা দিন। এখন ও আসে প্রতি রাতে জানালার গরাদ গলিয়ে হাতছানি দেয় আমাকে কুশবরণ চাঁদোয়ার নীচে বসি দুজনে মেঘের কোলে কোমল ঘাসের কুশানে। ও আমায় গল্প বলে, কোলে, আমার মাথা রেখে, বিনিকাটে ঘন কেশে, ওর গল্পে মনে পরে আমার, ছোটবেলার গ্যাস লন্ঠন, খালিপায়ে ফুটবল খেলা, কৈশোর বেলায়, গোপনে ধূমপান, লুকিয়ে প্রেম, সেই প্রেম ঐশ্বরীক হয়ে প্রেমের তকমা হৃদয়ে সেঁটে বয়ে চলেছে দশক পেরিয়ে দশকে, ও জুড়ে দেয় গল্প দাম্পত্য জীবনের, ঘাত প্রতিঘাত আচার, অনাচার, আমি থমকে যাই চেপে ধরি হাতটা, ও আমার কপালে চুম্বন আঁকে বলে, সই চলো যাই আনন্দ নিকেতনে। চোখ মেলে দেখি, পূব আকাশে আলো, ও কখন যে গেল চলে, জানা নেই, আসবে কি না আবার তাও জানা নেই, তবুও অপেক্ষা আমার সারাটা দিন ।।

নিলাম

ছবি
//  নিলাম  //    এ মনি করেই কাল মহাকাল  হাঁকছে নিলাম  নিলাম  নিলাম রাজত্বটা থাক পরে থাক আর বাকি সবই নিলাম ইঁট পাথরের গরাদ ছেড়ে পাড়ি দিল এবার সবি রইল পড়ে রাজত্বটা পাড়ি দিল রাজার ছবি রাজত্বটা রইল পড়ে ম্লানমুখে ঐ পানাধার দাঁড়িয়ে আছে আজ ফ‍্যাকাসে হায়রে এসব কে বা কার ঝাড়লন্ঠন গালচে খানা তার ছেঁড়া এস্রাজের দর নিলাম হেঁকে কমদামে সব বিকোয় বুঝি অতঃপর চাবুক দাগে আঁকা আছে কত বেদন হাহাকার হারেম থেকে কান্না নাকি হুতুম ডাকে বারংবার বিদেশিনীর ঘরে বাঁধা রাজার রাজার ছবিখানি সে যদি বা প্রজার প্রজা রাজার হবেনা মান হানি এমনি করেই কাল মহাকাল হাঁকছে নিলাম নিলাম নিলাম রাজত্বটা থাক পরে থাক আর যা বাকি  সবই নিলাম আর যা বাকি  সবই নিলাম।।

চাঁদের এত রূপ সে কি

ছবি
  // চাঁদের এত রূপ সে কি // চাঁদের এত রূপ সে কি মেঘে ঢাকা যায়? তাকে দেখে আবেগ এলে, সে কি রোখা যায়? তার তাতে দোষ কি বল, কেউ যদি বাসে ভালো, কলঙ্কিনি বললে তাকে, তার কি বা আসে যায়? চাঁদের এত রূপ সে কি, মেঘে ঢাকা যায়? সেতো তবু  রইবে সেজে , হাসবে শুধু আপন লাজে, তবু কথা  কইবে না সে, সে কি  সওয়া যায়? চাঁদের এত রূপ সে কি, মেঘে ঢাকা যায়?  পূব আকাশে, সূর্য যখন মিটিমিটি করে চায় , আলো আঁধারিতে , মুচকি হেসে চাঁদ বলে, আসবো আবার কাল, আজ যাই, আজ যাই । চাঁদের এত রূপ সে কি মেঘে ঢাকা যায়? তাকে দেখে আবেগ এলে,  সে কি রোখা যায়? চাঁদের এত রূপ সে কি মেঘে ঢাকা যায়?

সাঁটা আছে এ্যালবামে

ছবি
  // সাঁটা আছে এ্যালবামে // পরন্ত রাতে খড়খড়ির ফাঁকে, চোখে পড়ে রঙীন আলো, জেগে আছে ধ্রবতারা তখনও পাহারায় শিউলির চালে, পরন্ত রাতে খড়খড়ির ফাঁকে, চোখে পড়ে রঙীন আলো । শিউলির ছবি সাঁটা আছে এলবামে, নোলক নাকে,মাকড়ি কানে, নরম তালে তাল ফেলে, দুলে দুলে, গ্রামের ইস্কুলের পথে, মিষ্টি হাসিতে ডাকে "শ্যাম দাদা"। পাহারাদারের হুইসেল বাজে, ভোর হয়,কুকুরের কাতরানি আসে বুজে, চেয়ে দেখি ও পাড়ার দিকে জানালা দিয়ে, কালো পিচের পথে, পিষ্ট হয়েছে শিউলি  কাল রাতে শেষ ট্রামের চাপে। দাঙ্গার দামামা বাজে, আজও আমার বুকে প্রহর পেরিয়ে প্রহরে, উত্তাল হাসিতে ডাকে  "শ্যাম দাদা" "শ্যাম দাদা", পরন্ত রাতে খড়খড়ির ফাঁকে, চোখে পড়ে রঙীন আলো ।।

অবাক লাগে, অবাক লাগে

ছবি
 // অবাক লাগে, অবাক লাগে // বহুরূপীর রঙ্গ সাজ দেখে , অবাক লাগে, অবাক লাগে, আজও অবাক লাগে । দেখ, দেখ, রূপ আর রূপ, মানুষের ভেতর মানুষ, মুখোশের আড়ালে মুখোশ, একই অঙ্গে এতো রূপ। তাকে দেখেছি আমি, সূর্যোদয়ে গঙ্গাতীরে প্রাতভ্রমনে, চায়ের পেয়ালা হাতে বারান্দাতে, খবরের কাগজের হেডলাইনে, থলে হাতে বাজারের পথে। দেখেছি তাকে কলম পিষতে, আপিসের ফাইলে মুখ গুঁজে, বিরতিতে, পেছনের গলিতে, খাবারের থালায় হামলে পড়তে। দেখেছি তাকে কাজের পরে, আপিস ভেরত ভিড়ের বাসে, ঝুলন্ত দেহে দরজার হাতলে। দেখেছি তাকে রাতের গভীরে, রং তুলি হাতে দেয়াল লিখনে। দেখেছি তাকে শহুরে পথে পথে, পা মেলাতে দলিয় পতাকা হাতে, শ্লোগানে শ্লোগানে জন জাগরণে । আবার দেখেছি তাকে, নাটকের মহড়ায়, ছৌঁ নাচে , ছৌঁ নাচে, কখনও রাজ বেশে, কখনও বা রাক্ষস সাজে। আমিও গোপনে দেখেছি তাকে, গোপন ডেরায় বৈপ্লবিক বৈঠকে, ভয়ঙ্কর অনুশাসনে অনুশীলনে, সামরিক সাজে, মারণাস্ত্র হাতে। অবাক হয়ে দেখেছি তাকে, বসন্তের বিকেলে, ঘাসের নরমে, আয়েশে, ছাতিম গাছের নীচে, চোখের তারায় তারায়, ভেসে যেতে আবেগে, হাতে হাত রেখে গানে গানে। অবাক লাগে, অবাক লাগে, আজও অবাক লাগে।।

প্রতীক্ষা

ছবি
      // প্রতীক্ষা // এখনও আলো ফোটে, এখনও ‌ঢাক বাজে, এখনও কলাবউ কোলে ওঠে শতাব্দীর গ্লানি দূরে ঠেলে আসন পাতে নব পত্রিকার অঙ্গনে। কানে কানে কারা কড়া নাড়ে, শঙ্কিত শব্দ মাটির আচ্ছাদনে অচ্ছুত আচরণে‌ বিলম্বিত আজানুতে চুম্বিত বলয় কৃশানু হতে চায়, শুধু হাত ধরতে বলা তাকে জলা পেরিয়ে মেঠো পথে পেঁজা তুলোর ছায়া ঢলে পড়ে আমার বর্ষিয়সী প্রেয়সীর গালে, সেই গালেই তো গড়েছে স্বপ্ন   সাক্ষীর সাক্ষরে, শ্রুতিধর শঙ্কিত হতে চায় আজ চকিতে বারবার আংশিক অক্ষরে। এমনই তো কথা ছিল, প্রত্যন্তরে প্রত্যূষে, প্রতীক্ষার প্রণয় পাওয়া  যা হয়েছে বিরল বিড়ম্বনার বেড়াজালে।।

উপর ওয়ালার উপরি

ছবি
 //  উপর ওয়ালার উপরি //  উপর ওয়ালার উপরি আমি, উপুর হয়ে সারাটা জীবন, দেখেছি কেবল চলছে দিন, ভাঙ্গছে সূর্য চাঁদের গ্রহণ। ভাঙ্গা বাসন ভাঙ্গা কুলো, ভাঙ্গা মনের আচ্ছাদন, কিনছে মানুষ সময় গুলো  প্রণয় পালার বিবর্তন। সাঁটছে  তাকে বাঁ বুকেতে, চাখ্ছে স্বাদ  চোখের ফাঁকে, সারাটা জীবন গাঁটছড়াতে, পড়ছে ধূলো পথের বাঁকে। ঘ্রাণের সাথে  ঘৃণাই শুধু, কপালে জোটে অনুক্ষণ, যেদিকে তাকাই কেবল  ধু ধু, করব কত আর অন্বেষণ। বুকের খোলশ ধুলোর ওপর, চোখের মণিতে রেখেছে রেশ, ভারী হলে বাতাস আস্তাকুঁড়ের, স্বর্গ মর্ত মানায় বেশ। নাকে আমার সদাই জোটে, নখের আঁচড় নখের শেষ, ক্লীবের কানে কথা কাটে, বোধেতে নেই কোনই ক্লেশ। এই তো আছি চলছি ফিরছি. হাসি কান্নায় থাকছি বেশ, মাটি হয়েছে দোসর আমার, উলঙ্গে শুরু উলঙ্গে শেষ।।

আজ নয় থাক

ছবি
// আজ নয় থাক // শেষের বেলা, পরন্ত আলোর খেলা, দিগন্তের কাছাকাছি , মনের পাশাপাশি , আমি এক যাযাবর , আমি এক যাযাবর। পরিযায়ী পাখনা মেলে উড়ছি আমি, দেখছি আমি, মোহিত আমি স্রষ্টার সৃষ্টিতে, অনন্ত সৌন্দর্য হয়েছে বিলীন এ ধরনীর ধরাতলে , আকাশে ,বাতাসে, পাহাড়ে ,পর্বতে, সাগরে, নদীতে, কেউ বলে এটাই সব আবার ,বলে কেউ কেউ, এখানেই নয়তো শেষ শেষের কথা  হোয়েছে কি শব্দে  গাঁথা? কেউকি দেখেছে তাকে? পরশে শুধুই দিয়েছে জানান, আদর বিছান আঁচল তার আকাঙ্খিত অভিলাষে, ওরা আঁক কাটে, সীমানা বাঁধে দলে দলে , বাঁধতে চায় পাকে পাকে , রাখতে চায় ধরে পিছু টানে মানষিক আবেগে, বলে ,যেওনা চলে সীমানা পেরিয়ে এ পারের পাট চুকিয়ে , থেকে যাও, আরো  কিছুকাল , এসো খুশিতে আনন্দে মাতি ভুলে যেতে ইহকাল পরকাল, জিজ্ঞাসা, যার থাকে থাকুক, অবসরে চুলচেরা হিসেব হতেই পারে নিভৃতে একান্তে, কোন এক দিনে, কোন এক ক্ষনে, ক্ষতি কি তাতে? আজ নয় থাক ।।                                                ...

বুক পাতা সোনালী রোদ্দুর

ছবি
 //  বুক পাতা সোনালী রোদ্দুর // চলনা চড়ে আসি স্বপ্নিল পৃথিবীর মায়াবী সিঁড়িতে যেখানে হাজারো প্রেমিকার বুক পাতা সোনালী রোদ্দুর আজও আঁক কাটে আকার ইঙ্গিতে। এখন ভয় নেই মরিচিকায় মরণ এঁটেছে খিল দোরে তার ছেঁড়া ফাঁটা ঝোলা ঝুলে পরে চিক্কন কাঁধ বেয়ে অস্থিতে আড়ি তার অসহায় অবলম্বনে। কবিতার বুকে‌ বুক সেঁকে প্রেম আর নয় সচল সেখানে সদর্পে আলিঙ্গন রঙিন শারিরীক ব্যাভিচারে। দক্ষিণের বাতাসে সাদা কালোয় কবিতার পাতা জুড়োয় জ্বলা তার ড্যাব ডেবে চেয়ে থাকা চেরা পাতার খাঁজে ঠিকানা তার গঙ্গা আঁকা চিরকুটে। চলো আসন পাতি স্মরণ সভায় সজাগ শ্রবণে সেদিনের উচ্চারিত বুকের শব্দের কবিতা সোচ্চার হতে চায় ভিতরে আমার। হাতে হাত রাখো জুড়িয়ে আসি অভিলাষ রজনীর আচমানে, ধূপের ধোঁয়ায় আহ্লাদে, লুটোপুটি আদরে।।

ওগো অতিথি তুমি যাযাবর,

ছবি
//ওগো অতিথি তুমি যাযাবর // ঘর ছেড়ে তবু তোমার ঘরেতেই ফেরা, ওগো অতিথি তুমি যাযাবর, বলনা, কখন কোন দেশে, পেতেছ তোমার ঘর? সুদূর সাইবেরিয়াতে না কি হিমালয়ে? না কি, আরও বহু দূরে? গঙ্গা, যমুনা, না কি মেঘনার তীরে? ওগো অতিথি তুমি যাযাবর। ঘর ছেড়ে তবু তোমার ঘরেতেই ফেরা, ফুল, ফল, দিন- রাত, সব ঋতুতেই ঘেরা, তোমার রূপোলি পাখায় শীত বয়ে এলো, সোনালী ধানগাছ রংয়ে রংয়ে রাঙিয়ে দিল, ওগো অতিথি তুমি যাযাবর।   তোমার দুচোখের কাজলেতে টানা কত ভালোবাসা, কতগান, কত সুর, আর কত ভাষা, স্বজন হারানো ব‍্যথায় বুক ভরে আছে, সব পেয়ে তবু কিছু খোয়া গেছে, মিশে গেছে সবই জোড়া দীঘিটিতে, কান্না, হাসি, যা ছিল রেশে,   ফুলে ফুলে মেলেছে ডানা মৌমাছিতে, ঘর ছেড়ে তবু তোমার ঘরেতেই ফেরা, ওগো অতিথি তূমি যাযাবর, তুমি যাযাবর।।

ধর্ম তাদের "বেওয়ারিশ"

ছবি
 // ধর্ম তাদের "বেওয়ারিশ "// দেখা হয় দুজনায়, দিনের শেষে,  গাড়ি বারান্দার নীচে, খবরা খবরে জানাজানি, কত পথ, কত মত, কত শ্রম, কত সাশ্রয় , জুড়োয় জ্বালা জীবনের  গায়ে আপন গন্ধমাখা ফুটপাতে , ঝিমিয়ে আসে পায়ের শব্দ, ফুটপাতের পাদানিতে, তোলা আছে এ জনমের সম্পদ  সূতোপাটের পুটলিতে, কড়ি বরগার আনাচে কানাচে , হেলে পড়ে মাথা গ্রানাইটের ব্লকে , নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রাম অকাতরে , ওরাও স্বপ্ন দেখে, কেউ বলছে ডেকে, আর এক হাতা সুখ চাও কি? উত্তর তাদের, আজ নয়, বলব কাল, ঘুম ভাঙ্গে ভোর রাতে, পরিষেবা হোস পাইপের শব্দে , রাজত্বটা তার পথ জুড়ে , মলিন হতে চায় ম্লান , ভোরের আবেশে অক্লেশে , ঠিকানা তাদের দিনের আলোয়, যত্র তত্র ,হট্ট মন্দিরে, পাঁচ হাতি বসনে, ওরা রাশি ,লগ্ন, শোনেনি কোনদিনও , গতর ভারী হলে চেয়ে দেখে আসমানে , কান্নার কোন প্লট নেই ওদের নাটকে, লটকানো দিন হুক ছেড়ে দিলে, শ্বববাহী গাড়ির সওয়ার টানে ঠ্যাং ধরে, ফুটপাতের সাথে গাল ঘষাঘষি , শেষের বিদায়, বেজায় আদরের, এই প্রথম জমি ছেড়ে উঁচুতে শোয়া, মর্গের  স্ট্রেচারে ,লোক চক্ষুর আড়ালে , পুঁটলিতে মিলতে হবে ভাতৃত্বের বন্ধনে, তারই মত আর...

আজ নয়, থাক

ছবি
// আজ নয়, থাক // শেষের বেলা, পরন্ত আলোর খেলা, দিগন্তের কাছাকাছি , মনের পাশাপাশি, আমি এক যাযাবর। পরিযায়ী পাখনা মেলে উড়ছি আমি, দেখছি আমি, মোহিত আমি স্রষ্টার সৃষ্টিতে, অনন্ত সৌন্দর্য হয়েছে বিলীন  এ ধরনীর ধরাতলে , আকাশে, বাতাসে, পাহাড়ে, পর্বতে, সাগরে, নদীতে, কেউ বলে এটাই সব আবার, বলে কেউ কেউ, এখানেই নয়তো শেষ শেষের কথা শব্দে বাঁধা  কেউ কি দেখেছে তাকে? পরশে শুধুই দিয়েছে জানান, আদর বিছানো আঁচল তার আকাঙ্খিত অভিলাষে, ওরা আঁক কাটে, সীমানা বাঁধে দলে দলে, বাঁধতে চায় পাকে পাকে, রাখতে চায় ধরে  পিছু টানে মানষিক আবেগে, বলে, যেওনা চলে সীমানা পেরিয়ে এ পারের পাট চুকিয়ে , থেকে যাও, আরো কিছুকাল, এসো খুশিতে আনন্দে মাতি ভুলে যেতে ইহকাল পরকাল, জিজ্ঞাসা, যার থাকে থাকুক,    অবসরে চুলচেরা হিসেব  হতেই পারে নিভৃতে একান্তে, আজ নয় থাক ।।